Skip to main content

Posts

আদম (আ)পর্ব 11: হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল:

হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল: হযরত আদম (আ) এক হাজার বছর বয়ক্রমকালে রোগশয্যায় পতিত হয়। ছেলেদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদি আনতে বলেন, যাতে সেগুলো খেতে পারেন। শীষ (আ) ব্যতীত আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেরা ফলফলাদি আনতে যায়, কিন্তু হযরত শীষ (আ) পিতার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আদম সন্তানদের যারা ফলফলাদি আনতে গিয়েছিল, তারা আসতে দেরী দেখে হযরত শীষ (আ) কে বললেন, তুমি অমুক পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমার দোয়ার বরকতে আমার জন্য ফলফলাদি পাঠিয়ে দিবেন। পিতার নির্দেশে হযরত শীষ (আ) পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করেন। দোয়া শেষে দেখেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একটি সোনালী রংয়ের রেকাবীতে করে ডুমুর, ডালিম, সেব, নারীঙ্গী, কমলালেবু, আঙ্গুর, আঞ্জির, খরমুজা প্রভৃতি ফল নিয়ে এসেছেন। জিবরাঈল (আ) কর্তৃক বেহেশত থেকে আনীত ফলফলাদির কিছু হযরত আদম (আ) খান এবং কিছু তার সন্তানদের দেন। এবার হযরত আদম (আ) সন্তানদের অন্তিম উপদেশ দিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অস্থায়ী জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে চলে যাব। শীষ আমার স্থলাভিষিক্ত থাকবে। তোমরা সকলে তার আনুগত্য করবে এবং তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা সকলে হযরত শীষ (আ) এর আনুগ...
Recent posts

আদম (আ) পর্ব 10: কা'বিল ও হাবিল:

কা'বিল ও হাবিল: বিশ্বে মানব বংশ বিস্তারের জন্য হযরত আদম (আ) এই নিয়ম বেঁধে দিয়েছিলেন হযরত হাওয়ার গর্ভ থেকে যে জোড়া জোড়া সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তাদের এক জোড়ার ছেলে মেয়েকে অন্য জোড়ার ছেলে মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিতেন। এই নিয়মের অধীন কাবীল ও হাবীলের শাদীর ব্যাপারটি ছিল মীমাংসাধীন। কাবীল ছিল বয়সে বড় এবং তার সহোদরা ছিল হাবীলের সহোদরার চাইতে অধিক সুন্দরী। একারণে কাবীলের কাছে এটা খুবই অপছন্দনীয় ছিল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হাবীলের সহোদরার সাথে তার বিবাহ হোক এবং হাবিলের শাদী হোক তার (কাবীলের) সহোদরর সাথে। হযরত আদম (আ) বিষয়টির মীমাংসা করলেন এভাবে যে, তারা কাবিল ও হাবিল উভয়ে নিজ নিজ কুরবানী আল্লাহ তাআলার দরবারে উপস্থাপন করবে এবং যার কুরবানী গৃহীত হবে সেই আপন ইচ্ছা পূরণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তাওরাত থেকে জানা যায়, ঐ যুগে কুরবানী (মানত) কবুল হওয়ার এই ঐশী দস্তুর ছিল কুরবাণীর বস্তুকে কোন “উঁচু জায়গায় রেখে দেয়া হত এবং আকাশ থেকে এক খন্ড আগুন নেমে এসে তা ভষ্ম করে দিত। ঐ নিয়ম অনুযায়ী হাবীল তার পাল থেকে একটি মোটা তাজা দুম্বা আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানত করল এবং কাবীল তার উৎপাদিত ...

আদম (আ) পর্ব 9: হযরত আদম (আ) এর প্রতি ফজর নামাজ প্রবর্তন:

হযরত আদম (আ) এর প্রতি ফজর নামাজ প্রবর্তন: হযরত আদম (আ) ও হযরত হাওয়া যখন পৃথিবীতে প্রেরণ হয়েছিলেন তখন সমগ্র দুনিয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। হযরত আদম (আ) ও হযরত হাওয়া (আ) তিনশত বছরকাল অন্ধকারের মধ্যেই অতিবাহিত করেছিলেন। তারপর যেদিন ভোরে হযরত আদম (আ) এর দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল কল এবং আল্লাহ পাক তার গুনাহ ক্ষমা করলেন, সাথে সাথে হযরত আদম (আ) কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আল্লাহর দরবারে দুটি সিজদাহ দিলেন। ঐ সিজদাহ দুটি পরবর্তকালে ফজরের দুরাকাত ফরয নামাযে পরিণত হল। এর আগে হযরত আদম (আ) এর প্রতি কোন নামায আদায়ের হুকুম ছিল না, সুতরাং তিনি ইতোপূর্বে কোন নামায আদায় করেননি, কিন্তু ঐ দিনের পর হতে তার প্রতি ফজরের ওয়াক্তে আদায় করার জন্য দুরাকাত নামায ফরজ হয় এবং তিনি তা যথারীতি আদায় করতে থাকেন।

আদম (আ) পর্ব 8: হযরত আদম (আ) এর দোয়া:

হযরত আদম (আ) এর দোয়া: হযরত আদম (আ) স্বীয় ভূলের কারণে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার প্রার্থনা করেন। ঐ সময় তিনি আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছিলেন তা সূরা আরাফে বর্নিত আছে : ربنا ظلمنا وإن لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের উপর বড় জুলুম করেছি, অতঃপর যদি তুমি আমাদেরকে মাফ না কর আর আমাদের প্রতি দয়া না কর তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাব।” (সূরাঃ আরাফ, আয়াত : ২৩) প্রায় তিনশত বছর অতিবাহিত হল। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা জিবরাঈল বললেন, হে জিবরাঈল! তুমি আমার বান্দা হযরত আদম (আ) এর কাছে গিয়ে বল, সে মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্জ আদায় করুক। তিনি হযরত আদম (আ) এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে আল্লাহর আদেশ জানিয়ে দিলেন। তখন হযরত আদম (আ) আল্লাহর আদেশ পালন করতে মক্কা শরীফের দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি সেখানে উপনীত হওয়া মাত্র অগণিত ফেরেশতা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল ঃ হে আদম! আমরা আল্লাহর আদেশে একাধারে দুহাজার বছর ধরে খানায়ে কাবার তাওয়াফ করছি। ঐ সময় খানায়ে কাবার নাম ছিল বাইতুল মামুর। তখন অবশ্য তা কোন প্রকাশ্য বা দৃশ্যমান ঘর আকারে ছিল না, বরং চতুর্থ কিংবা সপ্তম আসমানে বাইতুল মাম...

আদম (আ) পর্ব 7: আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার

আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার এবার ইবলীসের হাতে একটা সুযোগ এল। সে আদম ও হাওয়ার অন্তরে এ মর্মে প্ররোচনা ঢেলে দিল এ বৃক্ষই ‘চিরস্থায়ী বৃক্ষ'। এর ফল ভক্ষণ করা মানে চিরদিন জান্নাতে অবস্থানের নিশ্চয়তা লাভ। সে কসম করে তাদেরকে এ মর্মে আশ্বস্ত করল সে তাদের মংগলাকাংখী; দুশমন মোটেই নয়। একথা শুনে হযরত আদম (আ) এর 'মানব সুলভ' মনমানসিকতায় ভ্রান্তির সংযোগ ঘটলো। তিনি ভুলে বসলেন, আল্লাহর উপরোক্ত নির্দেশ শুধু অভিভাবক সুলভ পরামর্শ নয় বরং নিষেধ সূচক একটি নির্দেশ। শেষ পর্যন্ত তাঁর জান্নাতে চিরস্থায়ী অবস্থান এবং আল্লাহর নৈকট্যে থাকার সংকল্পে শৈথিল্য দেখা দিল। তিনি ফল ভক্ষণ করলেন। সাথে সাথে তাঁর মানবিক বৈশিষ্ট্যতা প্রকাশ পেতে আরম্ভ করল। দেখলেন, তিনি বিবস্ত্র, পোশাক পরিচ্ছদ থেকে বঞ্চিত। সত্বর উভয়ে (আদম ও হাওয়া) গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে আরম্ভ করলেন। এখান থেকেই যেন মানব সভ্যতার সূচনা। কেননা তারা দেহ আচ্ছাদনের জন্য এই প্রথমবারের মত বৃক্ষের পাতা ব্যবহার করলেন। একদিকে এ ঘটনা, অপরদিকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি নাযিলের সূচনা। আদম (আ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘নিষেধ সত্ত্বেও কেন এ অমান্...

আদম (আ) পর্ব 6: আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল 2:

আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল 2: আদম (আ) কে শিক্ষাদান ও ফেরেশতাদের দুর্বলতা স্বীকার এটা মনে করা ভুল এ স্থলে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস এ উদ্দেশ্যে ছিল আল্লাহর সাথে তর্কবিতর্ক কিংবা তার সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিদ্রান্বেষণ করতে চায়; বরং আসলে তারা আদম সৃষ্টির কারণ এবং তাঁকে খলীফা বানানোর রহস্য জানতে চেয়েছিল । যা হোক আল্লাহ তায়ালা তাঁদের বর্ণনা ভঙ্গির উপর তাদেরকে সাবধান করে দেন। অতঃপর তাদের সেই জিজ্ঞাসার, যার মধ্যে আদম (আ) কে হেয় প্রতিপন্ন করার আভাস ছিল, উত্তর এমন ভাবে দেন যাতে ফেরেশতারা শুধু আদমের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেনি বরং নিজেদের দুর্বলতা ও পশ্চাৎপদতা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিল । আল্লাহ তা'আলা আদমকে 'ইলম' নামক গুণে ভূষিত করেন। তাকে বিভিন্ন জিনিসের ইলম দান করেন। অতঃপর সেই সমস্ত জিনিস ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে বলেন, 'তোমরা এ সমস্ত জিনিস সম্পর্কে কী ইলম রাখ। তাদের তো কোন ইলম ছিল না, অতএব কি উত্তর দেবে? কিন্তু যেহেতু মহাপ্রজ্ঞাশীল আল্লাহ্র নৈকট্যে তারা ছিল-তাই তৎক্ষণাৎ বুঝে নিল এ প্রশ্নের উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা নয় বরং এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা, আল্লাহর প...

আদম (আ) পর্ব 5: আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল:

  আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল: আল্লাহ তা'আলা যখন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন ফেরেশতাদের এ মর্মে জ্ঞাত করেন আমি পৃথিবীতে এমন একজনকে আমার খলীফা বানাতে চাই, যে ইচ্ছা ও সংকল্পের অধিকারী হবে, আমার পৃথিবীতে যেরূপ ইচ্ছা চলাফেরা করতে পারবে এবং আপন প্রয়োজনাদি পূরণে আপন মর্জি মত যে কোন জিনিসকে কাজে লাগাতে পারবে—যেন সে হবে দুনিয়ায় আমার ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের বহিঃপ্রকাশ। ফেরেশতাগণ এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। তারা আল্লাহর কাছে নিবেদন করলো, ‘প্রভু, যদি এ ব্যক্তির সৃষ্টির উদ্দেশ্য এ হয়, সে রাত দিন আপনার পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা এবং আপনার সত্তার গুণগানে রত থাকবে তবে এ কাজের জন্য তো আমরাই উপস্থিত আছি। আমরা তো প্রতিটি মূহূর্তে আপনার গুণগানে রত আছি এবং বিনা দ্বিধায় আপনার আদেশ পালন করে যাচ্ছি। মাটির তৈরি এ ব্যক্তি থেকে আমরা যেন ফিতনা ও ফাসাদের গন্ধ পাচ্ছি। এমনও হতে পারে সে আপনার পৃথিবীতে দুষ্টকর্ম ও রক্তারক্তির সৃষ্টি করবে। অতএব প্রভু আপনার এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কি গোপন রহস্য রয়েছে তা আমরা বুঝতে অক্ষম। তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদেরকে এ শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হলো, স্রষ্টার কোন ব্য...

আদম (আ) পর্ব 4: ইবলীসের অবকাশ কামনা:

ইবলীসের অবকাশ কামনা: ইবলীস যখন দেখল, বিশ্বস্রষ্টার নির্দেশের বিরোধিতা, আত্মম্ভরিতা সেচ্ছাচারিতা ও আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্যায় আচরণের অভিযোগে সে মহান প্রভু আল্লাহর করুণা ও রহমত থেকে বিদূরিত এবং জান্নাত থেকে চিরবঞ্চিত হয়েছে তখনও সে তওবা (অনুতাপ) ও লজ্জাবোধ-এর পরিবর্তে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে প্রার্থনা জানাল, কিয়ামত পর্যন্ত আমাকে সুযোগ দিন এবং সেদিন পর্যন্ত আমার জীবন-কাল বর্ধিত করুন। আল্লাহর ইচ্ছাও তাই। অতএব ইবলীসের প্রার্থনা মঞ্জুর করা হল। এটা শুনে ইবলীসের শয়তানি আৱো যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। সে বলতে লাগল, যেআদমের কারণে আমার ভাগ্যে এই অপমান ও বঞ্চনা জুটেছে আমি সেইআদমের সন্তানদের চলার পথরুদ্ধ করে দেব। ডানে-বামে, আশে-পাশে ও চতুর্দিকে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব এবং তাদের অধিকাংশকেই তোমার অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ করে ছাড়ব। অবশ্য যারা তোমার একনিষ্ট দাস তারা আমার প্রতারণায় প্রতারিত হবে না বরং নিজেদেরকে সব সময়ই রক্ষা করে চলবে। আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, এতে আমার কোন পরোয়া নেই। আমার বিধান হল, যে যেমন করবে সে তেমন পাবে। অতএব যে আদম সন্তান আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং ...

আদম (আ) পর্ব 3 : হযরত আদম (আ) কে সিজদার নির্দেশ:

হযরত আদম (আ) কে সিজদার নির্দেশ: ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হল, তোমরা তার সামনে সিজদাবনত হও। সঙ্গে সঙ্গে সব মালায়েকা নির্দেশ পালন করল কিন্তু ইবলীস (শয়তান) গর্বভরে সে নির্দেশ পালন করতে সোজাসোজি অস্বীকার করল। ঘটনার এই অংশটুকু পবিত্র কুরআন শরীফের নিচের আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে। وإذ قلنا للملئكة اسجدوا لادم فسجدوا إلا إبليس ـ أبي واستكبر وكان من الكافرين . وقلنا يادم اسكن أنت وزوجك الجنة وكلا منها رغدا حيث شئتما . ولا تقربا هذه الشجرة تتكونا من الظالمين . “যখন ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি নত হও, তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই নত হল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল। সুতরাং সে প্রত্যাখ্যানকারীদের অন্তর্ভূক্ত হল। এবং আমি বললাম, হে আদম, তুমি ও তোমার সঙ্গিনী স্বর্গে বসবাস কর এবং যথা ও যেথা ইচ্ছা ভক্ষণ কর। কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না; হলে, তোমরা অত্যাচারিদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা : বাকারা; আয়াত ৩৪-৩৫) ولقد خلقناكم ثم صورنكم ثم قلنا للملائكة اسجدوا لادم فسجدوا إلا إبليس . لم يكن من الساجدين - “আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করি, এরপর তোমাদের রূপদান করি এবং তারপর ফেরেশতাদেরকে আদমের নিকট নত হতে বলি; ইবলীশ ...

আদম (আ) পর্ব -01 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি:

 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি: আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদি মানব হযরত আদম (আ) কে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাবা ঘরের মাটি দ্বারা মাথা, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা পেট ও পিঠ, দুনিয়ার পূর্ব সীমান্তের মাটি দ্বারা দু হাত এবং পশ্চিম সীমান্তের মাটি দ্বারা দু'পা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, বইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা হযরত আদম (আ) এর মাথা বেহেশতের মাটি দ্বারা মুখমন্ডল, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা দত্তরাজি, পবিত্র কাবার মাটি দ্বারা হস্তদয়, ইরাকের মাটি দ্বারা পৃষ্ঠদেশ, জান্নাতুল ফেরদাউসের মাটি দ্বারা কলিজা, তায়েফের মাটি দ্বারা জিহ্বা, হাউজে কাওছারের মাটি দ্বারা চক্ষুদ্বয়, পর্বতের মাটি দ্বারা মেরুদন্ড এবং বারেলের মাটি দ্বারাআদমের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার মাথা মক্কা শরীফের মাটি দ্বারা, ঘাড় বাইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা, পেট ও পিঠ আদনের মাটি দ্বারা, হস্ত দ্বয় পাক-ভারতের মাটি দ্বারা, পদদ্ব...

আদম (আ) পর্ব -02 : আদম (আ) এর দেহে রূপ প্রবেশ:

আদম (আ) এর দেহে রূপ প্রবেশ: আদম (আ) এর রুহ রন্ধ্র পথে দেহ পিঞ্জরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে। যখন হযরত আদম (আ) চোখ খোলেন তখন তার রূহ মাথা থেকে কণ্ঠনালীতে, কণ্ঠনালী থেকে বক্ষে এবং বক্ষ থেকে নাভি পর্যন্ত পৌঁছে, কর্দমাক্ত দেহ পিঞ্জর গোশত, হাড়, অস্থিমজ্জা ও অস্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে আল্লাহর কুদরতে হযরত আদম (আ) যমীনের উপর হাতে ঠেস দিয়ে উঠতে চান। তখন ফেরেশতারা বলে উঠেন- এ বান্দাহ ত্বরাপ্রবণ হবে। এখনও তার শরীর অর্ধেক কর্দমাক্ত অথচ সে ওঠতে চাচ্ছে। হযরত আদম (আ) স্বীয় দেহের প্রতি তাকিয়ে দেখলেন, আল্লাহ পাক তাকেকি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তার রূহ, জোড়া, রগসমূহ, গোশত, হাড় ও অস্থিমজ্জা, মোট কথা সমস্ত শরীরে বায়ুর ন্যায় ঘুরতে থাকে। তখন হযরত আদম (আ) এর মস্তককে শুয়ে দেয়ার এবং চেহারা মর্দনের জন্য ফেরেশতাদের পাঠান হয়। এর অল্পক্ষণ পরেই তার হাঁচি আসে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আগত এলহামের শিক্ষানুসারে হযরত আদম (আ) আলহামদু লিল্লাহ্ বলে উঠেন। উত্তরে আল্লাহ পাকের তরফ থেকে বলা হয় ইয়ারহামুকাল্লাহ।