Skip to main content

আদম (আ) পর্ব 8: হযরত আদম (আ) এর দোয়া:

হযরত আদম (আ) এর দোয়া:

হযরত আদম (আ) স্বীয় ভূলের কারণে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার প্রার্থনা করেন। ঐ সময় তিনি আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছিলেন
তা সূরা আরাফে বর্নিত আছে :
ربنا ظلمنا وإن لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের উপর বড় জুলুম করেছি, অতঃপর যদি তুমি আমাদেরকে মাফ না কর আর আমাদের প্রতি দয়া না কর তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাব।” (সূরাঃ আরাফ, আয়াত : ২৩)
প্রায় তিনশত বছর অতিবাহিত হল। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা জিবরাঈল বললেন, হে জিবরাঈল! তুমি আমার বান্দা হযরত আদম (আ) এর কাছে গিয়ে বল, সে মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্জ আদায় করুক। তিনি হযরত আদম (আ) এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে আল্লাহর আদেশ জানিয়ে দিলেন। তখন হযরত আদম (আ) আল্লাহর আদেশ পালন করতে মক্কা শরীফের দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি সেখানে উপনীত হওয়া মাত্র অগণিত ফেরেশতা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল ঃ হে আদম! আমরা আল্লাহর আদেশে একাধারে দুহাজার বছর ধরে খানায়ে কাবার তাওয়াফ করছি। ঐ সময় খানায়ে কাবার নাম ছিল বাইতুল মামুর। তখন অবশ্য তা কোন প্রকাশ্য বা দৃশ্যমান ঘর আকারে ছিল না, বরং চতুর্থ কিংবা সপ্তম আসমানে বাইতুল মামুর নামে ফেরেশতাদের ইবাদাত করার যে মসজিদ আছে, মক্কা শরীফের ঐ জায়গাটি ঠিক তার নিচে অবস্থিত ছিল এবং মসজিদটির ছায়া ঐ জায়গায় পতিত হত। পরবর্তীকালে হযরত আদম (আ) এর মাধ্যমে এখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয় এবং তারই নামকরন করা হয় বাইতুল্লাহ বা কাবা নামে।

মহান আল্লাহর দরবারে পুনরায় দোয়ায় মগ্ন হলেন, হে মাবুদ! আপনি আমার ও আমার স্ত্রী হাওয়ার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমি জানিনা হাওয়া এখন কোথায় কিভাবে আছে। সম্ভবত তারও জানা নেই আমি কোথায় আছি। হে মাবুদ! আপনি আমাদের উভয়ের প্রতি রহমত করুন আমাদের মধ্যে পুনর্মিলন
ঘটিয়ে আমাদের মনে শান্তি দান করুন।
হযরত আদম (আ) এর দোয়া ফল দায়ক হল, তিনি সম্মুখের প্রান্তরে দেখলেন, জেদ্দার দিক থেকে যেন বিবি হাওয়া ধীরে ধীরে তারই দিকে আসছেন। এ দৃশ্য দেখে হযরত আদম (আ) আর বসে থাকতে পারলেন না। তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগমনরত বিবি হাওয়াকে জড়িয়ে ধরে কেদে ফেললেন।
হযরত আদম (আ) ও বিবি হাওয়ার মধ্যে দীর্ঘকালের বিচ্ছেদের পর মক্কার যে জায়গাটিতে বসে তাদের সে বিচ্ছেদের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল, সে জায়গাটির বর্তমান নাম আরাফাত হলেও তখন কিন্তু এ নাম ছিল না, বরং ঐদিন তাদের পরস্পরের মধ্যে এভাবে দেখা-সাক্ষাৎ সংঘটিত হওয়ার কারণেই তার নাম আরাফাত হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

আদম (আ) পর্ব -01 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি:

 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি: আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদি মানব হযরত আদম (আ) কে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাবা ঘরের মাটি দ্বারা মাথা, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা পেট ও পিঠ, দুনিয়ার পূর্ব সীমান্তের মাটি দ্বারা দু হাত এবং পশ্চিম সীমান্তের মাটি দ্বারা দু'পা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, বইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা হযরত আদম (আ) এর মাথা বেহেশতের মাটি দ্বারা মুখমন্ডল, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা দত্তরাজি, পবিত্র কাবার মাটি দ্বারা হস্তদয়, ইরাকের মাটি দ্বারা পৃষ্ঠদেশ, জান্নাতুল ফেরদাউসের মাটি দ্বারা কলিজা, তায়েফের মাটি দ্বারা জিহ্বা, হাউজে কাওছারের মাটি দ্বারা চক্ষুদ্বয়, পর্বতের মাটি দ্বারা মেরুদন্ড এবং বারেলের মাটি দ্বারাআদমের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার মাথা মক্কা শরীফের মাটি দ্বারা, ঘাড় বাইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা, পেট ও পিঠ আদনের মাটি দ্বারা, হস্ত দ্বয় পাক-ভারতের মাটি দ্বারা, পদদ্ব...

আদম (আ)পর্ব 11: হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল:

হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল: হযরত আদম (আ) এক হাজার বছর বয়ক্রমকালে রোগশয্যায় পতিত হয়। ছেলেদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদি আনতে বলেন, যাতে সেগুলো খেতে পারেন। শীষ (আ) ব্যতীত আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেরা ফলফলাদি আনতে যায়, কিন্তু হযরত শীষ (আ) পিতার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আদম সন্তানদের যারা ফলফলাদি আনতে গিয়েছিল, তারা আসতে দেরী দেখে হযরত শীষ (আ) কে বললেন, তুমি অমুক পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমার দোয়ার বরকতে আমার জন্য ফলফলাদি পাঠিয়ে দিবেন। পিতার নির্দেশে হযরত শীষ (আ) পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করেন। দোয়া শেষে দেখেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একটি সোনালী রংয়ের রেকাবীতে করে ডুমুর, ডালিম, সেব, নারীঙ্গী, কমলালেবু, আঙ্গুর, আঞ্জির, খরমুজা প্রভৃতি ফল নিয়ে এসেছেন। জিবরাঈল (আ) কর্তৃক বেহেশত থেকে আনীত ফলফলাদির কিছু হযরত আদম (আ) খান এবং কিছু তার সন্তানদের দেন। এবার হযরত আদম (আ) সন্তানদের অন্তিম উপদেশ দিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অস্থায়ী জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে চলে যাব। শীষ আমার স্থলাভিষিক্ত থাকবে। তোমরা সকলে তার আনুগত্য করবে এবং তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা সকলে হযরত শীষ (আ) এর আনুগ...

আদম (আ) পর্ব 7: আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার

আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার এবার ইবলীসের হাতে একটা সুযোগ এল। সে আদম ও হাওয়ার অন্তরে এ মর্মে প্ররোচনা ঢেলে দিল এ বৃক্ষই ‘চিরস্থায়ী বৃক্ষ'। এর ফল ভক্ষণ করা মানে চিরদিন জান্নাতে অবস্থানের নিশ্চয়তা লাভ। সে কসম করে তাদেরকে এ মর্মে আশ্বস্ত করল সে তাদের মংগলাকাংখী; দুশমন মোটেই নয়। একথা শুনে হযরত আদম (আ) এর 'মানব সুলভ' মনমানসিকতায় ভ্রান্তির সংযোগ ঘটলো। তিনি ভুলে বসলেন, আল্লাহর উপরোক্ত নির্দেশ শুধু অভিভাবক সুলভ পরামর্শ নয় বরং নিষেধ সূচক একটি নির্দেশ। শেষ পর্যন্ত তাঁর জান্নাতে চিরস্থায়ী অবস্থান এবং আল্লাহর নৈকট্যে থাকার সংকল্পে শৈথিল্য দেখা দিল। তিনি ফল ভক্ষণ করলেন। সাথে সাথে তাঁর মানবিক বৈশিষ্ট্যতা প্রকাশ পেতে আরম্ভ করল। দেখলেন, তিনি বিবস্ত্র, পোশাক পরিচ্ছদ থেকে বঞ্চিত। সত্বর উভয়ে (আদম ও হাওয়া) গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে আরম্ভ করলেন। এখান থেকেই যেন মানব সভ্যতার সূচনা। কেননা তারা দেহ আচ্ছাদনের জন্য এই প্রথমবারের মত বৃক্ষের পাতা ব্যবহার করলেন। একদিকে এ ঘটনা, অপরদিকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি নাযিলের সূচনা। আদম (আ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘নিষেধ সত্ত্বেও কেন এ অমান্...