হযরত আদম (আ) এর দোয়া:
হযরত আদম (আ) স্বীয় ভূলের কারণে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার প্রার্থনা করেন। ঐ সময় তিনি আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছিলেন
তা সূরা আরাফে বর্নিত আছে :
ربنا ظلمنا وإن لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من
প্রায় তিনশত বছর অতিবাহিত হল। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা জিবরাঈল বললেন, হে জিবরাঈল! তুমি আমার বান্দা হযরত আদম (আ) এর কাছে গিয়ে বল, সে মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্জ আদায় করুক। তিনি হযরত আদম (আ) এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে আল্লাহর আদেশ জানিয়ে দিলেন। তখন হযরত আদম (আ) আল্লাহর আদেশ পালন করতে মক্কা শরীফের দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি সেখানে উপনীত হওয়া মাত্র অগণিত ফেরেশতা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল ঃ হে আদম! আমরা আল্লাহর আদেশে একাধারে দুহাজার বছর ধরে খানায়ে কাবার তাওয়াফ করছি। ঐ সময় খানায়ে কাবার নাম ছিল বাইতুল মামুর। তখন অবশ্য তা কোন প্রকাশ্য বা দৃশ্যমান ঘর আকারে ছিল না, বরং চতুর্থ কিংবা সপ্তম আসমানে বাইতুল মামুর নামে ফেরেশতাদের ইবাদাত করার যে মসজিদ আছে, মক্কা শরীফের ঐ জায়গাটি ঠিক তার নিচে অবস্থিত ছিল এবং মসজিদটির ছায়া ঐ জায়গায় পতিত হত। পরবর্তীকালে হযরত আদম (আ) এর মাধ্যমে এখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয় এবং তারই নামকরন করা হয় বাইতুল্লাহ বা কাবা নামে।
মহান আল্লাহর দরবারে পুনরায় দোয়ায় মগ্ন হলেন, হে মাবুদ! আপনি আমার ও আমার স্ত্রী হাওয়ার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমি জানিনা হাওয়া এখন কোথায় কিভাবে আছে। সম্ভবত তারও জানা নেই আমি কোথায় আছি। হে মাবুদ! আপনি আমাদের উভয়ের প্রতি রহমত করুন আমাদের মধ্যে পুনর্মিলন
ঘটিয়ে আমাদের মনে শান্তি দান করুন।
হযরত আদম (আ) এর দোয়া ফল দায়ক হল, তিনি সম্মুখের প্রান্তরে দেখলেন, জেদ্দার দিক থেকে যেন বিবি হাওয়া ধীরে ধীরে তারই দিকে আসছেন। এ দৃশ্য দেখে হযরত আদম (আ) আর বসে থাকতে পারলেন না। তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগমনরত বিবি হাওয়াকে জড়িয়ে ধরে কেদে ফেললেন।
হযরত আদম (আ) ও বিবি হাওয়ার মধ্যে দীর্ঘকালের বিচ্ছেদের পর মক্কার যে জায়গাটিতে বসে তাদের সে বিচ্ছেদের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল, সে জায়গাটির বর্তমান নাম আরাফাত হলেও তখন কিন্তু এ নাম ছিল না, বরং ঐদিন তাদের পরস্পরের মধ্যে এভাবে দেখা-সাক্ষাৎ সংঘটিত হওয়ার কারণেই তার নাম আরাফাত হয়েছে।
Comments
Post a Comment