Skip to main content

আদম (আ) পর্ব 3 : হযরত আদম (আ) কে সিজদার নির্দেশ:

হযরত আদম (আ) কে সিজদার নির্দেশ:

ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হল, তোমরা তার সামনে সিজদাবনত হও। সঙ্গে সঙ্গে সব মালায়েকা নির্দেশ পালন করল কিন্তু ইবলীস (শয়তান) গর্বভরে
সে নির্দেশ পালন করতে সোজাসোজি অস্বীকার করল। ঘটনার এই অংশটুকু পবিত্র কুরআন শরীফের নিচের আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে।
وإذ قلنا للملئكة اسجدوا لادم فسجدوا إلا إبليس ـ أبي
واستكبر وكان من الكافرين . وقلنا يادم اسكن أنت وزوجك
الجنة وكلا منها رغدا حيث شئتما . ولا تقربا هذه الشجرة
تتكونا من الظالمين .
“যখন ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি নত হও, তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই নত হল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল। সুতরাং সে প্রত্যাখ্যানকারীদের অন্তর্ভূক্ত হল। এবং আমি বললাম, হে আদম, তুমি ও
তোমার সঙ্গিনী স্বর্গে বসবাস কর এবং যথা ও যেথা ইচ্ছা ভক্ষণ কর। কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না; হলে, তোমরা অত্যাচারিদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা : বাকারা; আয়াত ৩৪-৩৫)
ولقد خلقناكم ثم صورنكم ثم قلنا للملائكة اسجدوا لادم
فسجدوا إلا إبليس . لم يكن من الساجدين -
“আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করি, এরপর তোমাদের রূপদান করি এবং তারপর ফেরেশতাদেরকে আদমের নিকট নত হতে বলি; ইবলীশ ছাড়া সকলেই
নত হয়। যারা নত হল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হল না।"
(সূরা আরাফ আয়াত 11)
যদিও আল্লাহ্ তা'আলা অদৃশ্য সম্পর্কে অবহিত এবং অন্তরের রহস্যাদি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল, যদিও তার কাছে অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যত একাকার তবু তিনি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইবলীসকে প্রশ্ন করলেন।
قال ما منعك الأنسجد اذ أمرتك . قال أنا خير منه
خلقتني من نار وخلفته من طين .
“তিনি বললেন, আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত্ত করল তুমি নত হলে না? ইবলিস উত্তরে বলল, আমি তার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
আমাকে (তুমি) আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে মৃত্তিকা দিয়ে।"
(সূরা ঃ আ'রাফ, আয়াত : ১২)

Comments

Popular posts from this blog

আদম (আ) পর্ব -01 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি:

 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি: আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদি মানব হযরত আদম (আ) কে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাবা ঘরের মাটি দ্বারা মাথা, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা পেট ও পিঠ, দুনিয়ার পূর্ব সীমান্তের মাটি দ্বারা দু হাত এবং পশ্চিম সীমান্তের মাটি দ্বারা দু'পা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, বইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা হযরত আদম (আ) এর মাথা বেহেশতের মাটি দ্বারা মুখমন্ডল, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা দত্তরাজি, পবিত্র কাবার মাটি দ্বারা হস্তদয়, ইরাকের মাটি দ্বারা পৃষ্ঠদেশ, জান্নাতুল ফেরদাউসের মাটি দ্বারা কলিজা, তায়েফের মাটি দ্বারা জিহ্বা, হাউজে কাওছারের মাটি দ্বারা চক্ষুদ্বয়, পর্বতের মাটি দ্বারা মেরুদন্ড এবং বারেলের মাটি দ্বারাআদমের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার মাথা মক্কা শরীফের মাটি দ্বারা, ঘাড় বাইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা, পেট ও পিঠ আদনের মাটি দ্বারা, হস্ত দ্বয় পাক-ভারতের মাটি দ্বারা, পদদ্ব...

আদম (আ)পর্ব 11: হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল:

হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল: হযরত আদম (আ) এক হাজার বছর বয়ক্রমকালে রোগশয্যায় পতিত হয়। ছেলেদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদি আনতে বলেন, যাতে সেগুলো খেতে পারেন। শীষ (আ) ব্যতীত আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেরা ফলফলাদি আনতে যায়, কিন্তু হযরত শীষ (আ) পিতার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আদম সন্তানদের যারা ফলফলাদি আনতে গিয়েছিল, তারা আসতে দেরী দেখে হযরত শীষ (আ) কে বললেন, তুমি অমুক পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমার দোয়ার বরকতে আমার জন্য ফলফলাদি পাঠিয়ে দিবেন। পিতার নির্দেশে হযরত শীষ (আ) পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করেন। দোয়া শেষে দেখেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একটি সোনালী রংয়ের রেকাবীতে করে ডুমুর, ডালিম, সেব, নারীঙ্গী, কমলালেবু, আঙ্গুর, আঞ্জির, খরমুজা প্রভৃতি ফল নিয়ে এসেছেন। জিবরাঈল (আ) কর্তৃক বেহেশত থেকে আনীত ফলফলাদির কিছু হযরত আদম (আ) খান এবং কিছু তার সন্তানদের দেন। এবার হযরত আদম (আ) সন্তানদের অন্তিম উপদেশ দিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অস্থায়ী জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে চলে যাব। শীষ আমার স্থলাভিষিক্ত থাকবে। তোমরা সকলে তার আনুগত্য করবে এবং তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা সকলে হযরত শীষ (আ) এর আনুগ...

আদম (আ) পর্ব -02 : আদম (আ) এর দেহে রূপ প্রবেশ:

আদম (আ) এর দেহে রূপ প্রবেশ: আদম (আ) এর রুহ রন্ধ্র পথে দেহ পিঞ্জরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে। যখন হযরত আদম (আ) চোখ খোলেন তখন তার রূহ মাথা থেকে কণ্ঠনালীতে, কণ্ঠনালী থেকে বক্ষে এবং বক্ষ থেকে নাভি পর্যন্ত পৌঁছে, কর্দমাক্ত দেহ পিঞ্জর গোশত, হাড়, অস্থিমজ্জা ও অস্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে আল্লাহর কুদরতে হযরত আদম (আ) যমীনের উপর হাতে ঠেস দিয়ে উঠতে চান। তখন ফেরেশতারা বলে উঠেন- এ বান্দাহ ত্বরাপ্রবণ হবে। এখনও তার শরীর অর্ধেক কর্দমাক্ত অথচ সে ওঠতে চাচ্ছে। হযরত আদম (আ) স্বীয় দেহের প্রতি তাকিয়ে দেখলেন, আল্লাহ পাক তাকেকি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তার রূহ, জোড়া, রগসমূহ, গোশত, হাড় ও অস্থিমজ্জা, মোট কথা সমস্ত শরীরে বায়ুর ন্যায় ঘুরতে থাকে। তখন হযরত আদম (আ) এর মস্তককে শুয়ে দেয়ার এবং চেহারা মর্দনের জন্য ফেরেশতাদের পাঠান হয়। এর অল্পক্ষণ পরেই তার হাঁচি আসে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আগত এলহামের শিক্ষানুসারে হযরত আদম (আ) আলহামদু লিল্লাহ্ বলে উঠেন। উত্তরে আল্লাহ পাকের তরফ থেকে বলা হয় ইয়ারহামুকাল্লাহ।