Skip to main content

আদম (আ) পর্ব 6: আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল 2:

আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল 2:

আদম (আ) কে শিক্ষাদান ও ফেরেশতাদের দুর্বলতা স্বীকার এটা মনে করা ভুল এ স্থলে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস এ উদ্দেশ্যে ছিল আল্লাহর সাথে তর্কবিতর্ক কিংবা তার সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিদ্রান্বেষণ করতে চায়;
বরং আসলে তারা আদম সৃষ্টির কারণ এবং তাঁকে খলীফা বানানোর রহস্য জানতে চেয়েছিল । যা হোক আল্লাহ তায়ালা তাঁদের বর্ণনা ভঙ্গির উপর তাদেরকে সাবধান করে দেন। অতঃপর তাদের সেই জিজ্ঞাসার, যার মধ্যে আদম (আ) কে হেয় প্রতিপন্ন করার আভাস ছিল, উত্তর এমন ভাবে দেন যাতে ফেরেশতারা শুধু
আদমের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেনি বরং নিজেদের দুর্বলতা ও পশ্চাৎপদতা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিল । আল্লাহ তা'আলা আদমকে 'ইলম' নামক গুণে ভূষিত করেন। তাকে বিভিন্ন জিনিসের ইলম দান করেন। অতঃপর সেই সমস্ত জিনিস ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে বলেন, 'তোমরা এ সমস্ত জিনিস সম্পর্কে কী ইলম রাখ। তাদের তো কোন ইলম ছিল না, অতএব কি উত্তর দেবে? কিন্তু যেহেতু মহাপ্রজ্ঞাশীল আল্লাহ্র নৈকট্যে তারা ছিল-তাই তৎক্ষণাৎ বুঝে নিল এ প্রশ্নের উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা নয় বরং এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা, আল্লাহর পবিত্রতা ও মাহাত্ম বর্ণনার আধিক্যের উপর নয় বরং 'ইলম' (বিজ্ঞতা)-এর উপর নির্ভর করে। কেননা বিশ্ব পরিচালনা বিজ্ঞতা ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব যখন আল্লাহ তা'আলা আদম (আ) কে পরিপূর্ণ ইলমের অধিকারী করেছেন তখন নিঃসন্দেহে তিনিই পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের সর্বাধিক যোগ্য। আর প্রকৃত ব্যাপার এ আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের উপর যে দায়িত্ব অপর্ণ করেছেন তাতে তারা পৃথিবীর সব কামনা বাসনা ও রিপুর তাড়না থেকে মুক্ত, অতএব এই সমস্ত ব্যাপারে তাদের কোনই ইলম নেই। আর আদমকে যেহেতু এসব জিনিসের মুখোমুখি হতে হবে তাই এসব বিষয়ে ইলম লাভ করা তার জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাআলা প্রকৃতই তাকে ঐ সমস্ত জিনিসের ইলম দান করেছিলেন এবং তার জন্য যা কিছু জানার প্রয়োজন ছিল, সব কিছুই তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা-
“এবং তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সে-সমুদয় ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, `এ সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?'
তারা বললো, 'আপনি মহান পবিত্র। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের তো কোন ইলমই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।'
তিনি বললেন, 'হে আদম, ওদেরকে এসবের নাম বলে দাও।' যখন সে তাদেরকে এসবের নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বা গোপন রাখ নিশ্চিতভাবে আমি তা জানি?” বলিনি স্বর্গ ও মর্তের অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি অবহিত এবং তোমরা যা ব্যক্ত কর।
(সূরা : বাক্কারাহ, আয়াত : ৩১-৩৩)

Comments

Popular posts from this blog

আদম (আ) পর্ব -01 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি:

 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি: আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদি মানব হযরত আদম (আ) কে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাবা ঘরের মাটি দ্বারা মাথা, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা পেট ও পিঠ, দুনিয়ার পূর্ব সীমান্তের মাটি দ্বারা দু হাত এবং পশ্চিম সীমান্তের মাটি দ্বারা দু'পা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, বইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা হযরত আদম (আ) এর মাথা বেহেশতের মাটি দ্বারা মুখমন্ডল, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা দত্তরাজি, পবিত্র কাবার মাটি দ্বারা হস্তদয়, ইরাকের মাটি দ্বারা পৃষ্ঠদেশ, জান্নাতুল ফেরদাউসের মাটি দ্বারা কলিজা, তায়েফের মাটি দ্বারা জিহ্বা, হাউজে কাওছারের মাটি দ্বারা চক্ষুদ্বয়, পর্বতের মাটি দ্বারা মেরুদন্ড এবং বারেলের মাটি দ্বারাআদমের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার মাথা মক্কা শরীফের মাটি দ্বারা, ঘাড় বাইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা, পেট ও পিঠ আদনের মাটি দ্বারা, হস্ত দ্বয় পাক-ভারতের মাটি দ্বারা, পদদ্ব...

আদম (আ)পর্ব 11: হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল:

হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল: হযরত আদম (আ) এক হাজার বছর বয়ক্রমকালে রোগশয্যায় পতিত হয়। ছেলেদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদি আনতে বলেন, যাতে সেগুলো খেতে পারেন। শীষ (আ) ব্যতীত আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেরা ফলফলাদি আনতে যায়, কিন্তু হযরত শীষ (আ) পিতার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আদম সন্তানদের যারা ফলফলাদি আনতে গিয়েছিল, তারা আসতে দেরী দেখে হযরত শীষ (আ) কে বললেন, তুমি অমুক পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমার দোয়ার বরকতে আমার জন্য ফলফলাদি পাঠিয়ে দিবেন। পিতার নির্দেশে হযরত শীষ (আ) পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করেন। দোয়া শেষে দেখেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একটি সোনালী রংয়ের রেকাবীতে করে ডুমুর, ডালিম, সেব, নারীঙ্গী, কমলালেবু, আঙ্গুর, আঞ্জির, খরমুজা প্রভৃতি ফল নিয়ে এসেছেন। জিবরাঈল (আ) কর্তৃক বেহেশত থেকে আনীত ফলফলাদির কিছু হযরত আদম (আ) খান এবং কিছু তার সন্তানদের দেন। এবার হযরত আদম (আ) সন্তানদের অন্তিম উপদেশ দিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অস্থায়ী জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে চলে যাব। শীষ আমার স্থলাভিষিক্ত থাকবে। তোমরা সকলে তার আনুগত্য করবে এবং তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা সকলে হযরত শীষ (আ) এর আনুগ...

আদম (আ) পর্ব 7: আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার

আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার এবার ইবলীসের হাতে একটা সুযোগ এল। সে আদম ও হাওয়ার অন্তরে এ মর্মে প্ররোচনা ঢেলে দিল এ বৃক্ষই ‘চিরস্থায়ী বৃক্ষ'। এর ফল ভক্ষণ করা মানে চিরদিন জান্নাতে অবস্থানের নিশ্চয়তা লাভ। সে কসম করে তাদেরকে এ মর্মে আশ্বস্ত করল সে তাদের মংগলাকাংখী; দুশমন মোটেই নয়। একথা শুনে হযরত আদম (আ) এর 'মানব সুলভ' মনমানসিকতায় ভ্রান্তির সংযোগ ঘটলো। তিনি ভুলে বসলেন, আল্লাহর উপরোক্ত নির্দেশ শুধু অভিভাবক সুলভ পরামর্শ নয় বরং নিষেধ সূচক একটি নির্দেশ। শেষ পর্যন্ত তাঁর জান্নাতে চিরস্থায়ী অবস্থান এবং আল্লাহর নৈকট্যে থাকার সংকল্পে শৈথিল্য দেখা দিল। তিনি ফল ভক্ষণ করলেন। সাথে সাথে তাঁর মানবিক বৈশিষ্ট্যতা প্রকাশ পেতে আরম্ভ করল। দেখলেন, তিনি বিবস্ত্র, পোশাক পরিচ্ছদ থেকে বঞ্চিত। সত্বর উভয়ে (আদম ও হাওয়া) গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে আরম্ভ করলেন। এখান থেকেই যেন মানব সভ্যতার সূচনা। কেননা তারা দেহ আচ্ছাদনের জন্য এই প্রথমবারের মত বৃক্ষের পাতা ব্যবহার করলেন। একদিকে এ ঘটনা, অপরদিকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি নাযিলের সূচনা। আদম (আ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘নিষেধ সত্ত্বেও কেন এ অমান্...