আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল 2:
আদম (আ) কে শিক্ষাদান ও ফেরেশতাদের দুর্বলতা স্বীকার এটা মনে করা ভুল এ স্থলে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস এ উদ্দেশ্যে ছিল আল্লাহর সাথে তর্কবিতর্ক কিংবা তার সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিদ্রান্বেষণ করতে চায়;
বরং আসলে তারা আদম সৃষ্টির কারণ এবং তাঁকে খলীফা বানানোর রহস্য জানতে চেয়েছিল । যা হোক আল্লাহ তায়ালা তাঁদের বর্ণনা ভঙ্গির উপর তাদেরকে সাবধান করে দেন। অতঃপর তাদের সেই জিজ্ঞাসার, যার মধ্যে আদম (আ) কে হেয় প্রতিপন্ন করার আভাস ছিল, উত্তর এমন ভাবে দেন যাতে ফেরেশতারা শুধু
আদমের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেনি বরং নিজেদের দুর্বলতা ও পশ্চাৎপদতা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিল । আল্লাহ তা'আলা আদমকে 'ইলম' নামক গুণে ভূষিত করেন। তাকে বিভিন্ন জিনিসের ইলম দান করেন। অতঃপর সেই সমস্ত জিনিস ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে বলেন, 'তোমরা এ সমস্ত জিনিস সম্পর্কে কী ইলম রাখ। তাদের তো কোন ইলম ছিল না, অতএব কি উত্তর দেবে? কিন্তু যেহেতু মহাপ্রজ্ঞাশীল আল্লাহ্র নৈকট্যে তারা ছিল-তাই তৎক্ষণাৎ বুঝে নিল এ প্রশ্নের উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা নয় বরং এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা, আল্লাহর পবিত্রতা ও মাহাত্ম বর্ণনার আধিক্যের উপর নয় বরং 'ইলম' (বিজ্ঞতা)-এর উপর নির্ভর করে। কেননা বিশ্ব পরিচালনা বিজ্ঞতা ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব যখন আল্লাহ তা'আলা আদম (আ) কে পরিপূর্ণ ইলমের অধিকারী করেছেন তখন নিঃসন্দেহে তিনিই পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের সর্বাধিক যোগ্য। আর প্রকৃত ব্যাপার এ আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের উপর যে দায়িত্ব অপর্ণ করেছেন তাতে তারা পৃথিবীর সব কামনা বাসনা ও রিপুর তাড়না থেকে মুক্ত, অতএব এই সমস্ত ব্যাপারে তাদের কোনই ইলম নেই। আর আদমকে যেহেতু এসব জিনিসের মুখোমুখি হতে হবে তাই এসব বিষয়ে ইলম লাভ করা তার জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাআলা প্রকৃতই তাকে ঐ সমস্ত জিনিসের ইলম দান করেছিলেন এবং তার জন্য যা কিছু জানার প্রয়োজন ছিল, সব কিছুই তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা-
“এবং তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সে-সমুদয় ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, `এ সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?'
তারা বললো, 'আপনি মহান পবিত্র। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের তো কোন ইলমই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।'
তিনি বললেন, 'হে আদম, ওদেরকে এসবের নাম বলে দাও।' যখন সে তাদেরকে এসবের নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বা গোপন রাখ নিশ্চিতভাবে আমি তা জানি?” বলিনি স্বর্গ ও মর্তের অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি অবহিত এবং তোমরা যা ব্যক্ত কর।
(সূরা : বাক্কারাহ, আয়াত : ৩১-৩৩)
Comments
Post a Comment