ইবলীসের অবকাশ কামনা:
ইবলীস যখন দেখল, বিশ্বস্রষ্টার নির্দেশের বিরোধিতা, আত্মম্ভরিতা সেচ্ছাচারিতা ও আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্যায় আচরণের অভিযোগে সে মহান প্রভু আল্লাহর করুণা ও রহমত থেকে বিদূরিত এবং জান্নাত থেকে চিরবঞ্চিত হয়েছে তখনও সে তওবা (অনুতাপ) ও লজ্জাবোধ-এর পরিবর্তে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে প্রার্থনা জানাল, কিয়ামত পর্যন্ত আমাকে সুযোগ দিন এবং সেদিন পর্যন্ত আমার জীবন-কাল বর্ধিত করুন।
আল্লাহর ইচ্ছাও তাই। অতএব ইবলীসের প্রার্থনা মঞ্জুর করা হল। এটা শুনে ইবলীসের শয়তানি আৱো যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। সে বলতে লাগল, যেআদমের কারণে আমার ভাগ্যে এই অপমান ও বঞ্চনা জুটেছে আমি সেইআদমের সন্তানদের চলার পথরুদ্ধ করে দেব। ডানে-বামে, আশে-পাশে ও চতুর্দিকে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব এবং তাদের অধিকাংশকেই তোমার অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ করে ছাড়ব। অবশ্য যারা তোমার একনিষ্ট দাস তারা আমার প্রতারণায় প্রতারিত হবে না বরং নিজেদেরকে সব সময়ই রক্ষা করে চলবে। আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, এতে আমার কোন পরোয়া নেই। আমার বিধান হল, যে যেমন করবে সে তেমন পাবে। অতএব যে আদম সন্তান আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং তোমার অনুসরণ করবে সে তোমারই সাথে (জাহান্নামে) শাস্তি ভোগ করবে। তুমি আপন লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও দুর্ভাগ্য নিয়ে এখান থেকে দুর
হও এবং তোমার ও তোমার অনুসারীদের চিরস্থায়ী শাস্তির অপেক্ষা কর।
আল্লাহ্ বললেন, আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত করল যে, তুমি নত হলে না? সে বলল, আমি তার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ; আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ এবং তাকে কাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছ। তিনি (আল্লাহ) বললেন, এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করবে এটা হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি অধমদের শামিল।
সে বলল, ‘পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে সুযোগ দিন। তিনি বললেন, যাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো। সে বলল, তুমি আমার সর্বনাশ করলে, এজন্য আমিও তোমার সরল পথে মানবের জন্য নিশ্চয় ওত পেতে থাকবো। অতপর আমি তাদের কাছে আসব তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বাম দিক থেকে এবং তুমি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবে না। তিনি (আল্লাহ) বললেন, এখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও। মানবের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পরপূর্ণ করবই।
Comments
Post a Comment