Skip to main content

আদম (আ) পর্ব 5: আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল:

 আদম (আ)-এর খেলাফত হাসিল:

আল্লাহ তা'আলা যখন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন ফেরেশতাদের এ মর্মে জ্ঞাত করেন আমি পৃথিবীতে এমন একজনকে আমার খলীফা বানাতে চাই, যে ইচ্ছা ও সংকল্পের অধিকারী হবে, আমার পৃথিবীতে যেরূপ ইচ্ছা চলাফেরা করতে পারবে এবং আপন প্রয়োজনাদি পূরণে আপন মর্জি মত যে কোন জিনিসকে কাজে লাগাতে পারবে—যেন সে হবে দুনিয়ায় আমার ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের বহিঃপ্রকাশ। ফেরেশতাগণ এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। তারা আল্লাহর কাছে নিবেদন করলো, ‘প্রভু, যদি এ ব্যক্তির সৃষ্টির উদ্দেশ্য এ হয়, সে রাত দিন আপনার পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা এবং আপনার সত্তার গুণগানে রত থাকবে তবে এ কাজের জন্য তো আমরাই উপস্থিত আছি। আমরা তো প্রতিটি মূহূর্তে আপনার গুণগানে রত আছি এবং বিনা দ্বিধায় আপনার আদেশ পালন করে যাচ্ছি। মাটির তৈরি এ ব্যক্তি থেকে আমরা যেন ফিতনা ও ফাসাদের গন্ধ পাচ্ছি। এমনও হতে পারে সে আপনার পৃথিবীতে দুষ্টকর্ম ও রক্তারক্তির সৃষ্টি করবে। অতএব প্রভু আপনার এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কি গোপন রহস্য রয়েছে তা আমরা বুঝতে অক্ষম।

তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদেরকে এ শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হলো, স্রষ্টার কোন ব্যাপারেই সৃষ্টির তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাঞ্ছনীয় নয় এবং তার পক্ষ থেকে প্রকৃত অবস্থা বর্ণনার পূর্বে সন্দেহ-সংশয়ে পতিত হওয়া মোটেই উচিত নয়-তাও আবার এমনভাবে তাতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দিকটি ফুটে উঠে। কেননা বিশ্বস্রষ্টা এমন সব রহস্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত যার কোন ইলমই তোমাদের নেই, তার ইলমে এমন সব বিষয় রয়েছে যা তোমরা মোটেই জান না।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা হল-“স্মরণ কর, যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন, 'আমি যমীনে
প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি।' তারা বললো, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসা
তিগান ও পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বললেন, 'আমি জানি যা তোমারা জাননা।” (সূরা ঃ বাক্বারাহ, আয়াতঃ ৩০)

Comments

Popular posts from this blog

আদম (আ) পর্ব -01 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি:

 হযরত আদম (আ) এর সৃষ্টি: আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদি মানব হযরত আদম (আ) কে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাবা ঘরের মাটি দ্বারা মাথা, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা পেট ও পিঠ, দুনিয়ার পূর্ব সীমান্তের মাটি দ্বারা দু হাত এবং পশ্চিম সীমান্তের মাটি দ্বারা দু'পা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় আছে, বইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা হযরত আদম (আ) এর মাথা বেহেশতের মাটি দ্বারা মুখমন্ডল, পাক-ভারতের মাটি দ্বারা দত্তরাজি, পবিত্র কাবার মাটি দ্বারা হস্তদয়, ইরাকের মাটি দ্বারা পৃষ্ঠদেশ, জান্নাতুল ফেরদাউসের মাটি দ্বারা কলিজা, তায়েফের মাটি দ্বারা জিহ্বা, হাউজে কাওছারের মাটি দ্বারা চক্ষুদ্বয়, পর্বতের মাটি দ্বারা মেরুদন্ড এবং বারেলের মাটি দ্বারাআদমের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তার মাথা মক্কা শরীফের মাটি দ্বারা, ঘাড় বাইতুল মুকাদ্দাসের মাটি দ্বারা, পেট ও পিঠ আদনের মাটি দ্বারা, হস্ত দ্বয় পাক-ভারতের মাটি দ্বারা, পদদ্ব...

আদম (আ)পর্ব 11: হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল:

হযরত আদম (আ) এর ইনতিকাল: হযরত আদম (আ) এক হাজার বছর বয়ক্রমকালে রোগশয্যায় পতিত হয়। ছেলেদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদি আনতে বলেন, যাতে সেগুলো খেতে পারেন। শীষ (আ) ব্যতীত আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেরা ফলফলাদি আনতে যায়, কিন্তু হযরত শীষ (আ) পিতার সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আদম সন্তানদের যারা ফলফলাদি আনতে গিয়েছিল, তারা আসতে দেরী দেখে হযরত শীষ (আ) কে বললেন, তুমি অমুক পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমার দোয়ার বরকতে আমার জন্য ফলফলাদি পাঠিয়ে দিবেন। পিতার নির্দেশে হযরত শীষ (আ) পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করেন। দোয়া শেষে দেখেন, হযরত জিবরাঈল (আ) একটি সোনালী রংয়ের রেকাবীতে করে ডুমুর, ডালিম, সেব, নারীঙ্গী, কমলালেবু, আঙ্গুর, আঞ্জির, খরমুজা প্রভৃতি ফল নিয়ে এসেছেন। জিবরাঈল (আ) কর্তৃক বেহেশত থেকে আনীত ফলফলাদির কিছু হযরত আদম (আ) খান এবং কিছু তার সন্তানদের দেন। এবার হযরত আদম (আ) সন্তানদের অন্তিম উপদেশ দিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অস্থায়ী জগত থেকে চিরস্থায়ী জগতে চলে যাব। শীষ আমার স্থলাভিষিক্ত থাকবে। তোমরা সকলে তার আনুগত্য করবে এবং তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা সকলে হযরত শীষ (আ) এর আনুগ...

আদম (আ) পর্ব 7: আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার

আদম (আ) কে চিরস্থায়ী জীবন থেকে বহিষ্কার এবার ইবলীসের হাতে একটা সুযোগ এল। সে আদম ও হাওয়ার অন্তরে এ মর্মে প্ররোচনা ঢেলে দিল এ বৃক্ষই ‘চিরস্থায়ী বৃক্ষ'। এর ফল ভক্ষণ করা মানে চিরদিন জান্নাতে অবস্থানের নিশ্চয়তা লাভ। সে কসম করে তাদেরকে এ মর্মে আশ্বস্ত করল সে তাদের মংগলাকাংখী; দুশমন মোটেই নয়। একথা শুনে হযরত আদম (আ) এর 'মানব সুলভ' মনমানসিকতায় ভ্রান্তির সংযোগ ঘটলো। তিনি ভুলে বসলেন, আল্লাহর উপরোক্ত নির্দেশ শুধু অভিভাবক সুলভ পরামর্শ নয় বরং নিষেধ সূচক একটি নির্দেশ। শেষ পর্যন্ত তাঁর জান্নাতে চিরস্থায়ী অবস্থান এবং আল্লাহর নৈকট্যে থাকার সংকল্পে শৈথিল্য দেখা দিল। তিনি ফল ভক্ষণ করলেন। সাথে সাথে তাঁর মানবিক বৈশিষ্ট্যতা প্রকাশ পেতে আরম্ভ করল। দেখলেন, তিনি বিবস্ত্র, পোশাক পরিচ্ছদ থেকে বঞ্চিত। সত্বর উভয়ে (আদম ও হাওয়া) গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে আরম্ভ করলেন। এখান থেকেই যেন মানব সভ্যতার সূচনা। কেননা তারা দেহ আচ্ছাদনের জন্য এই প্রথমবারের মত বৃক্ষের পাতা ব্যবহার করলেন। একদিকে এ ঘটনা, অপরদিকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি নাযিলের সূচনা। আদম (আ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘নিষেধ সত্ত্বেও কেন এ অমান্...